হ্যালির ধুমকেতুর ইতিহাস অনেক পুরোনো। মানব সভ্যতার অনেক বাঁক ঘাত-প্রতিঘাতের সাথে এটি জড়িয়ে আছে। জোর্তিবিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি ১৭০৫ সালে প্রথম ধুমকেতুটির গতিবিধি নির্নয় করেন। তার নামানুসারেই ধুমকেতুটির নামকরণ করা হয়। তাঁর বেধে দেয়া গতিবিধি এবং মানব ইতিহাস বিশ্লেষন করে জানা যায়, খ্রীষ্টপূর্ব ২৩০ অব্দ থেকে এর ধারাবাহিক অবির্ভাবের রেকর্ড আছে। প্রাচীন চৈনিক গ্রন্থ Chih Chi (খ্রীষ্টপূর্ব ৯০ অব্দ) তে একে "ঝাড়ু তারকা" (Broom Star) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে যা কিনা পূর্বদিকে অর্বিভূত হয়ে আস্তে আস্তে উত্তর দিকে গমন করে। প্রাচীন চৈনিক ছাড়াও ব্যবিলন, মিশর, ইনকা প্রভৃতি সভ্যতায়ও এর বিস্তৃত বর্ণনা পাওয়া যায়। কখনো একে অশুভ (বিজিত পক্ষের জন্য) আর কখনো শুভ (বিজয়ী পক্ষের জন্য) হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। যেমন ১০৬৬ সালে হেস্টিংসের যুদ্ধে ইংল্যান্ডের রাজা হ্যারল্ড দ্বিতীয় পরাজিত হন উইলিয়াম দ্য কংকারের কাছে। ফলে উইলিয়াম দ্য কংকারের কাছে ধুমকেতুটি প্রতিয়মান হয় বিজয় চিহ্ণ হিসেবে।
হ্যালির ধুমকেতু কালের সাক্ষী হিসেবে ৭৫ (মোটামুটি) বছর পর পর পৃথিবীর আকাশ অর্বিভূত হয়। বিগত শতাব্দীর গোড়ায় ১৯১০ সালে এটি যখন দেখা যায়, তখন ছিল উপনিবেশিক যুগ আর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাককাল। গোটা পৃথিবী জুড়েই ছিল ব্রিটেনের একছ্ত্র রাজত্ব আর অন্যদিকে কম্যুনিস্ট রাশিয়ার উত্থানের পদধ্বনি। ১৯৮৬ সালে এটি আসে সোভিয়েত রাশিয়ার ভাঙ্গন আর আমেরিকার একক সুপার পাওয়ার হওয়ার বার্তা নিয়ে। ২০৬১ তে এটি কি বার্তা নিয়ে আসবে তা একমাত্র মহাকালই বলতে পারে। কিন্তু তখনও যে কোন একটি কালের সাক্ষী হয়ে থাকবে তা নিদ্বিধায় বলা যায়।



